ফারো দ্বীপপুঞ্জের তিমি শিকার: ঘটনার ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ (Timeline of the Faroe Islands Whale Hunt)
ফারো দ্বীপপুঞ্জের গ্রিন্ডাদ্রাপ বা তিমি শিকারের রক্তাক্ত ইতিহাস, ২০২১-এর প্রতিক্রিয়া, কোটা কমানো এবং চলমান বিতর্কের সম্পূর্ণ সময়রেখা।
4 মিনিট পড়া

পাইলট তিমি ২০২১ সালে একদিনে হত্যা করা হয়
১,৪২৮+
সূত্র: BBC, ২০২১
নতুন বার্ষিক কোটা ২০২২ থেকে
৫০০
সূত্র: ফারো সরকার ঘোষণা
মাংসে উচ্চ মাত্রার পারদ, স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর (স্থানীয় গবেষণা)
৮০%
সূত্র: Faroese Environmental Agency
হত্যার পর মাংস স্থানীয় বাজারে পাওয়া যায়, যা আমদানিকৃত খাদ্যের সাথে প্রতিযোগিতা করে
৯০%
সূত্র: HSI, ২০২১
TL;DR: ফারো দ্বীপপুঞ্জের গ্রিন্ডাদ্রাপ একটি বার্ষিক তিমি হত্যা উৎসব, যা ২০২১ সালে ১,৪০০+ তিমি হত্যার পর বিশ্বব্যাপী নিন্দার শিকার হয়। এরপর কোটা ৫০০-তে নামিয়ে আনা হয়েছে, কিন্তু ২০২৬ সালের আগস্টে এখনও বিতর্ক ও সংস্কার দাবি চলছে।
“ঐতিহ্য অন্ধত্বের অজুহাত নয়; সহানুভূতির সংস্কৃতি গড়ুন, হত্যার নয়।”
সচরাচর জিজ্ঞাসা
- গ্রিন্ডাদ্রাপ কী?
- গ্রিন্ডাদ্রাপ হল ফারো দ্বীপপুঞ্জে পাইলট তিমি শিকারের একটি প্রাচীন প্রথা, যেখানে স্থানীয় লোকেরা নৌকায় করে তিমিদের তীরে তাড়িয়ে নিয়ে যায় এবং বর্শা দিয়ে হত্যা করে। এটি মূলত মাংস ও চর্বির জন্য করা হয়, যা ঐতিহ্যগতভাবে স্থানীয় খাদ্যের অংশ। তবে প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলো এটিকে নিষ্ঠুর ও অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করে।
- ২০২১ সালে ফারো দ্বীপপুঞ্জে কতটি তিমি হত্যা করা হয়েছিল?
- ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে একদিনে ১,৪০০টিরও বেশি পাইলট তিমি হত্যা করা হয়েছিল, যা রেকর্ড সংখ্যক। এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার পায় এবং প্রতিবাদ সৃষ্টি করে। এ ঘটনার পর ফারো সরকারকে কোটা কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
- ফারো দ্বীপপুঞ্জের তিমি শিকারের কোটা কত?
- ২০২২ সালে ফারো সরকার বার্ষিক কোটা ৮০০ থেকে কমিয়ে ৫০০-এ নির্ধারণ করে। এই কোটা পাইলট তিমি ও অন্যান্য সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণীর জন্য প্রযোজ্য। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন, ৫০০ও অনেক বেশি এবং এটি টেকসই নয়।
- গ্রিন্ডাদ্রাপ কি আইনত বৈধ?
- হ্যাঁ, গ্রিন্ডাদ্রাপ ফারো দ্বীপপুঞ্জে আইনত বৈধ। ফারো দ্বীপপুঞ্জ ডেনমার্কের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল, তবে তিমি শিকার তাদের নিজস্ব আইনে নিয়ন্ত্রিত হয়। আন্তর্জাতিক তিমি কমিশন (IWC) এই শিকারকে বাণিজ্যিক নয় বলে গণ্য করে, তাই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে না।
- ফারো দ্বীপপুঞ্জের মানুষ কেন তিমি শিকার করে?
- ফারো দ্বীপপুঞ্জের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে তিমি শিকার করেছে খাদ্য সংকট মোকাবেলায়। দ্বীপে কৃষি জমি কম, তাই তিমির মাংস ও চর্বি তাদের ঐতিহ্যবাহী খাদ্যের অংশ। তবে আধুনিক যুগে আমদানিকৃত খাদ্য সহজলভ্য, তাই সমালোচকরা প্রশ্ন তোলেন এটা এখনও প্রয়োজনীয় কি না।
- গ্রিন্ডাদ্রাপ বন্ধ করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে?
- বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন যেমন সি শেফার্ড এবং হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনাল তিমি শিকার বন্ধে প্রচারণা চালাচ্ছে। পাশাপাশি, ভোক্তা পর্যায়ে ফারো দ্বীপপুঞ্জের পণ্য বয়কটের ডাক দেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকার ও জনগণ তাদের ঐতিহ্য রক্ষায় অটল।
- ফারো দ্বীপপুঞ্জের তিমি শিকার কি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর?
- বিজ্ঞানীরা বলছেন, পাইলট তিমি শিকার তাদের জনসংখ্যার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যদি কোটা যথাযথভাবে মানা না হয়। তাছাড়া, তিমির মাংসে উচ্চ মাত্রার পারদ ও অন্যান্য ভারী ধাতু থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এটি পরিবেশ ও স্বাস্থ্য উভয় দিক থেকেই উদ্বেগের বিষয়।
সূত্র
এই লেখাটি আপনার কেমন লাগলো?
আপনি এখনই যা করতে পারেন
এই গল্পের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ তিনটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ।
- একটি সক্রিয় আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করুনসবচেয়ে বড় প্রাণী অধিকার সংস্থাগুলোর প্রচারাভিযান খুঁজুন।
- এই সপ্তাহে একটি প্রাণীমুক্ত বিকল্প চেষ্টা করুনছোট, ধারাবাহিক পরিবর্তন চাহিদা বদলে দেয়।
- এই লেখাটি শেয়ার করুনএকটি শেয়ার গড়ে ৫-১০ জনকে অবহিত করে।


